প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই নিয়মরক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছিলেন। তবে মাঠের লড়াই সেই ধারণাকে মুহূর্তেই ভুল প্রমাণ করেছে। দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স এমন এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ উপহার দিয়েছে, যা দীর্ঘদিন ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে জায়গা করে নেবে। গোলের বন্যায় ভেসে যাওয়া এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। রক্ষণে ফ্রান্সের একের পর এক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমার্ধেই চারবার জাল খুঁজে নেয় ইংলিশরা। ডেকলান রাইস প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর এজরি কনসা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। বিরতির আগে দুর্দান্ত নৈপুণ্যে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বুকায়ো সাকা। প্রথমার্ধেই আরও একটি গোলের সুযোগ তৈরি হলেও সেটি বাতিল হওয়ায় হ্যাটট্রিক থেকে বঞ্চিত হন তিনি।
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। চার গোল পিছিয়ে থেকেও হাল ছাড়েনি ফ্রান্স। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা চালায় দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একটি গোল শোধ করার পর আরও দুটি গোল করে ব্যবধান কমিয়ে আনে ফরাসিরা। একসময় মনে হচ্ছিল ম্যাচে ফিরেই যাবে তারা।
তবে ইংল্যান্ডও আক্রমণের ধার কমায়নি। প্রতিপক্ষ যখন ব্যবধান কমানোর চেষ্টায় ব্যস্ত, তখন সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও দুটি গোল করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে তারা। শেষ মুহূর্তে ফ্রান্স আরও একটি গোল করলেও ফল বদলানোর মতো সময় আর অবশিষ্ট ছিল না। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ৬-৪ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রোঞ্জ পদক জিতে নেয় ইংল্যান্ড।
এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী পর্বের ইতিহাসেও বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। এক ম্যাচে মোট ১০টি গোল হওয়ার ঘটনা বিরল। আক্রমণভাগের দারুণ নৈপুণ্যের পাশাপাশি দুই দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দর্শকরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপভোগ করেছেন একের পর এক আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ এবং নাটকীয় সব মুহূর্ত।
এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করল ইংল্যান্ড। একই সঙ্গে দলটি ব্রোঞ্জ পদকের পাশাপাশি বিপুল অর্থ পুরস্কারও নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ফ্রান্স পরাজিত হলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হয়েও এটি ছিল পূর্ণাঙ্গ একটি ফাইনালের মতো উত্তেজনাপূর্ণ। গোল, গতি, নাটকীয়তা ও প্রত্যাবর্তনের চেষ্টায় ভরপুর এই লড়াই বিশ্বকাপের স্মরণীয় ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে দীর্ঘদিন আলোচিত হবে।



