প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষ হলেও সেই ম্যাচকে ঘিরে বিতর্ক এখনো থামেনি। স্পেনের শিরোপা জয়ের কয়েক দিন পরও আর্জেন্টিনার একাংশের সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে। তাদের অভিযোগ, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্তে রেফারি ও চিত্রভিত্তিক সিদ্ধান্ত সহায়তা ব্যবস্থার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই বিশ্বকাপের ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবিতে অনলাইনে একটি স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে ৮৮ হাজারেরও বেশি মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাক্ষরের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ক্রীড়া আইন ও প্রতিযোগিতা পরিচালনার প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, এই ধরনের অনলাইন স্বাক্ষর সংগ্রহের মাধ্যমে কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচের ফল পরিবর্তন বা পুনরায় আয়োজন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেন শিরোপা নিশ্চিত করে। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে কয়েকটি বিতর্কিত মুহূর্তে রেফারির সিদ্ধান্ত এবং চিত্রভিত্তিক সিদ্ধান্ত সহায়তা ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেক সমর্থক। তাদের দাবি, এসব সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
ফুটবল সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ফল পরিবর্তন বা পুনরায় ম্যাচ আয়োজনের জন্য অত্যন্ত কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হয়। সাধারণ অসন্তোষ বা সমর্থকদের দাবির ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। কেবলমাত্র প্রতিযোগিতার নিয়মের গুরুতর লঙ্ঘন, প্রমাণিত অনিয়ম কিংবা বিচারিক কর্তৃপক্ষের বিশেষ নির্দেশ থাকলে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে নতুন সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন ম্যাচ ঘিরে এর আগেও একই ধরনের স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি দেখা গেছে। স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যকার সেমিফাইনালের পরও একদল সমর্থক পুনরায় ম্যাচ আয়োজনের দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি। তাই বর্তমান দাবির ক্ষেত্রেও বাস্তবসম্মত কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বড় আন্তর্জাতিক আসরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিতর্ক তৈরি হওয়া নতুন কিছু নয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে আবেগ নয়, বরং প্রতিযোগিতার বিধিমালা ও আইনই প্রধান বিবেচ্য বিষয়। ফলে সমর্থকদের এই উদ্যোগ আলোচনার জন্ম দিলেও বিশ্বকাপের ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



