প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০২:০২ পিএম
বিশ্বকাপ ফুটবলের সাম্প্রতিক আসরে স্পেনের দুটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ক্রীড়া জুয়াসংশ্লিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচে কারসাজি হয়েছে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিশ্বকাপ চলাকালে কয়েকটি ম্যাচে অস্বাভাবিক বাজির প্রবণতা এবং কিছু বিতর্কিত ঘটনার কারণে মোট সাতটি বিষয় বিশেষ পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনা স্পেনের ম্যাচকে ঘিরে হওয়ায় সেগুলো নিয়ে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রথম ঘটনাটি স্পেন ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ম্যাচকে কেন্দ্র করে। ম্যাচ শুরুর আগেই একটি নির্দিষ্ট ফলাফলের পক্ষে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থের বাজি ধরা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। দ্বিতীয় ঘটনাটি সৌদি আরবের বিপক্ষে স্পেনের ম্যাচে। ওই ম্যাচে স্পেনের একটি গোল দীর্ঘ সময় ধরে চিত্র সহায়তায় যাচাই করার পর বাতিল করা হয়। সিদ্ধান্ত নিতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগায় বিষয়টি নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, এসব ঘটনাকে প্রাথমিক সতর্কতার পর্যায়ে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ কিছু অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লেও তা থেকে সরাসরি কারসাজির সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অনেক সময় বাজির বাজারে হঠাৎ পরিবর্তন, গুজব বা তথ্য আদান-প্রদানের কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ক্রীড়া সততা বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় কোনো দল বা খেলোয়াড়কে দায়ী করা উচিত নয়। প্রতিটি ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ যাচাই করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে তাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় কোনো ম্যাচে সন্দেহজনক বাজি বা ফল নির্ধারণের মতো কার্যকলাপ শনাক্ত হয়নি। ফলে বর্তমানে যে তদন্ত চলছে, তা কেবল অভিযোগ ও অস্বাভাবিক তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
এ ছাড়া স্পেনের ম্যাচ ছাড়াও আরও কয়েকটি ম্যাচের কিছু নির্দিষ্ট ঘটনাও একইভাবে পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ধরনের চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে না। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



