রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্বকাপ ‘বিক্রির’ বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলল ফিফা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম

বিশ্বকাপ ‘বিক্রির’ বিতর্কে অবশেষে মুখ খুলল ফিফা

ফাইল ছবি

বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলোর পরিচালনা ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি বিনিয়োগ যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একজোট হয়েছে ইউরোপ ও উত্তর-মধ্য আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশের ফুটবল সংগঠন। ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে ফিফা।

ফিফার প্রস্তাব অনুযায়ী, বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের চিন্তা করা হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ফুটবল থেকে বাণিজ্যিক আয় বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটবল উন্নয়নে অতিরিক্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে এই উদ্যোগকে সহজভাবে নেয়নি ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাদের অধীন ৫৫টি দেশ প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। একইভাবে উত্তর ও মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ৪১টি সদস্য দেশও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেছে। ফলে দুই অঞ্চলের মোট ৯৬টি দেশের অবস্থান এখন ফিফার জন্য বড় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে কোনো বড় সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধেক সদস্য দেশ প্রস্তাবটির বিষয়ে নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

সমালোচনার মুখে ফিফা জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। সদস্য দেশগুলোর মতামত ও উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ বা ফুটবলের মালিকানা বিক্রি করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে তারা।

ফিফার যুক্তি, নতুন বাণিজ্যিক কাঠামোর উদ্দেশ্য ফুটবলের মূল নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া নয়। বরং বিশ্বব্যাপী ফুটবলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করাই এর লক্ষ্য।

তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত প্রভাব ভবিষ্যতে বিশ্বকাপসহ বড় প্রতিযোগিতার সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিচালনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে প্রস্তাবটি নিয়ে ফুটবল সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এখন সদস্য দেশগুলোর মতামত ও বিরোধিতা সামলে ফিফা কীভাবে পরিকল্পনাটি এগিয়ে নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!