প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম
বিশ্বকাপ ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র বিতর্কের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে পরিকল্পনা বাতিল হলেও সমালোচনার চাপ কমেনি সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে এখন তার নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক এই বিতর্কের পর নিজের অবস্থান শক্ত রাখতে ইনফান্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, এমন কোনো নির্ধারিত আলোচনা বা যোগাযোগের পরিকল্পনা নেই।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বিক্রির পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর ফুটবল অঙ্গনের বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরের স্বত্ব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তুলে দেওয়া হলে সংস্থাটির স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এ কারণে পরিকল্পনাটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল সংগঠনও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছে। কয়েকটি সংস্থা ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং ভবিষ্যতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছে। এমনকি পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচনে বর্তমান সভাপতিকে সমর্থন না দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে কয়েকটি সদস্য সংস্থা।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রশাসনে নতুন করে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আয়োজনের বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি উঠতে পারে। একই সঙ্গে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে ফিফার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, সংস্থাটি বিশ্ব ফুটবলের স্বার্থ রক্ষা এবং সদস্য দেশগুলোর আস্থা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে চলমান বিতর্ক ও নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।



