প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে আবারও দেখা যেতে পারে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রবসন রবিনহোকে। দেশের অন্যতম সফল ক্লাব বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ফলে আসন্ন মৌসুমে কিংসের জার্সিতে ঢাকার মাঠে আবারও খেলতে দেখা যাবে তাকে।
এর আগে টানা চার মৌসুম বসুন্ধরা কিংসের হয়ে খেলেছেন রবসন। ওই সময়ে ক্লাবটির আক্রমণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। চার মৌসুমে ৫৩ ম্যাচে মাঠে নেমে ৩৪টি গোল করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান। গোল করার পাশাপাশি আক্রমণভাগে তার গতি ও কার্যকারিতাও দলটির সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
কিংস ছাড়ার পর রবসন ব্রাজিলের সাও পাওলো অঞ্চলের একুয়া সান্তা ক্লাবে খেলেছেন। সেখানে ছয়টি ম্যাচে মাঠে নামার পর তিনি ভারতের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহনবাগানে যোগ দেন। ভারতীয় ক্লাবটির হয়ে ১১ ম্যাচে তিনটি গোল করেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক কয়েক মাস ধরে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে রয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।
এ অবস্থায় পুরোনো ক্লাবেই তার প্রত্যাবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখছে বসুন্ধরা কিংস। আগের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের ফুটবলের পরিবেশ সম্পর্কে তার পরিচিতি নতুন মৌসুমে দলটিকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। বিশেষ করে আক্রমণভাগে গোলের সুযোগ তৈরি ও তা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে রবসনের ওপর প্রত্যাশা থাকবে।
বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান রবসনের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রবসনকে আবারও দলে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি খেলোয়াড়ের তালিকায় আরও কয়েকজনকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ফিফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সম্প্রতি দলবদলের কার্যক্রমে পুরোপুরি ফিরেছে বসুন্ধরা কিংস। নিষেধাজ্ঞার কারণে বেশ কিছুদিন নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জটিলতায় ছিল ক্লাবটি। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর দ্রুত দল গঠনের কাজে নেমেছে তারা। স্থানীয় খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিদেশি ফুটবলার সংগ্রহেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
রবসনের পাশাপাশি আবাহনীতে খেলা নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এমেকা ওগবাগকেও দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কিংস। এছাড়া কেপ ভার্দের একজন ফুটবলারকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চলছে। আরও একজন বিদেশি খেলোয়াড় নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ক্লাবটির সভাপতি।
ফিফার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর দলবদলের বাজারে বসুন্ধরা কিংসের তৎপরতা বেড়েছে। নতুন মৌসুমে শক্তিশালী দল গড়ার লক্ষ্যেই একের পর এক খেলোয়াড় দলে যুক্ত করছে ক্লাবটি। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি খেলোয়াড় সংগ্রহে তাদের এই সক্রিয়তা দলটির শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যাশাকেও আরও জোরালো করেছে।
রবসনের প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একজন পুরোনো খেলোয়াড়কে দলে ফেরানো নয়, বরং কিংসের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে কয়েক মাস প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে থাকার পর তিনি কত দ্রুত নিজের পুরোনো ছন্দ ফিরে পান, সেটিই হবে বড় প্রশ্ন।
বাংলাদেশের মাঠে রবসনের আগের সাফল্য অবশ্য আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ তৈরি করেছে। কিংসের হয়ে ৩৪ গোলের স্মৃতি নিয়েই নতুন মৌসুমে ফিরছেন তিনি। এবার তার লক্ষ্য হবে পুরোনো ক্লাবের জার্সিতে আরও বেশি গোল করে দলকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নেওয়া।



