রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মার্কিন নৌসচিবকে ধন্যবাদ জানালেন আরাগচি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

মার্কিন নৌসচিবকে ধন্যবাদ জানালেন আরাগচি

ফাইল ছবি

বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিতে ইরানি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এমন বক্তব্য প্রকাশ্যে স্বীকার করায় দেশটির ভারপ্রাপ্ত নৌসচিব হাং কাওকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী ও ভারপ্রাপ্ত নৌসচিব হাং কাও সম্প্রতি এক মন্তব্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানি বাহিনীর হামলার প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে ঘাঁটিটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

হাং কাওয়ের এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি মার্কিন ভারপ্রাপ্ত নৌসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরসহ আগ্রাসনে সহায়তাকারী অন্যান্য সামরিক ঘাঁটিতে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।

আরাগচি আরও দাবি করেন, ইরানি হামলার কারণে ওইসব স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, হতাহতের সংখ্যা এবং সামরিক সক্ষমতার ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও সামরিক নীতিরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের যুদ্ধের ব্যয় বহন করার পরিবর্তে মার্কিন জনগণ আরও ভালো নীতি, নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক ব্যবস্থা পাওয়ার অধিকার রাখে।

বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পারস্য উপসাগর, আরব সাগর, লোহিত সাগর এবং আশপাশের সামুদ্রিক অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনায় এই ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ফলে সেখানে হামলা বা ক্ষয়ক্ষতির যেকোনো দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনা, আঞ্চলিক সামরিক সংঘাত এবং ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে দুই দেশের বিরোধের প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে ইরান হামলার সক্ষমতা ও প্রভাব তুলে ধরছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য পরিস্থিতির গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

তবে হামলার সময়, ব্যবহৃত অস্ত্র, ক্ষয়ক্ষতির নির্দিষ্ট মাত্রা এবং পরবর্তী সামরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Link copied!