প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও ইরান আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানা গেছে। মজুত থাকা বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে দেশটির ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের কাজ চলছে। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে আগের তুলনায় সীমিত পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। উৎপাদনে ব্যবহার করা হচ্ছে যুদ্ধ শুরুর আগেই সংরক্ষণ করে রাখা বিভিন্ন উপাদান। দক্ষিণ-পূর্ব তেহরানের খোজিরসহ কয়েকটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় নতুন করে তৎপরতা দেখা গেছে। সেখানে তরল ও কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রের বিভিন্ন অংশ সংযোজন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এর আগে সংঘাতের শুরুতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও সামরিক শিল্প স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছিল। ওই হামলায় দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বড় ধরনের ধাক্কা খায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি করা হয়েছিল। তবে নতুন করে উৎপাদন ও সংযোজনের খবর সেই দাবির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে আগে থেকেই বিপুল পরিমাণ প্রয়োজনীয় উপাদান মজুত ছিল। যুদ্ধের সময় এসব উপাদানের একটি বড় অংশ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের ধারণা। ফলে বাইরের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভূগর্ভে থাকা মজুত ব্যবহার করে উৎপাদন কার্যক্রম সীমিত আকারে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে বর্তমান উৎপাদনের পরিমাণ যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় কম বলে কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে। বিভিন্ন উপাদান ও কাঁচামাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইরানের ওপর চাপও রয়েছে। বিশেষ করে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির উপকরণ আমদানির সুযোগ সীমিত হওয়ায় উৎপাদন বাড়ানো দেশটির জন্য সহজ নয়।
ইরানের এই তৎপরতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভূগর্ভস্থ স্থাপনার ওপর নির্ভরতা বাড়ানো। সামরিক স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য নতুন হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে দেশটি আরও কিছু ভূগর্ভস্থ সংযোজনকেন্দ্র তৈরির চেষ্টা করছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। এতে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অবকাঠামোকে ছড়িয়ে দিয়ে হামলার ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া কঠিন হতে পারে। কারণ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর একটি অংশ ভূগর্ভে এবং বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে কোনো একটি স্থাপনায় হামলা চালালেই পুরো উৎপাদনব্যবস্থা অচল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে, ইরানের পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ফেরার খবর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রাখার মাধ্যমে তেহরান দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাতে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে।
সব মিলিয়ে, ব্যাপক হামলার পরও ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন পুনরায় শুরু হওয়ার তথ্য দেশটির সামরিক অবকাঠামোর স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতের সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


