প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। নতুন মূল্য নির্ধারণের পর এখন থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকায় বিক্রি হবে। এর আগে একই পরিমাণ তেলের নির্ধারিত মূল্য ছিল ১৯৯ টাকা। অর্থাৎ ভোক্তাদের প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ৫ টাকা গুনতে হবে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তেলের নতুন মূল্য নিয়ে আলোচনা ও সমন্বয় করা হয়। বৈঠকের পর সরকার নির্ধারিত নতুন মূল্যে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ নির্ধারিত খুচরা মূল্য ২০৪ টাকা। আগের তুলনায় এই দাম ৫ টাকা বেশি। ফলে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে।
তবে সব ধরনের ভোজ্যতেলের দাম একই সঙ্গে বাড়ানো হয়নি। নতুন মূল্য সমন্বয়ের আওতায় খোলা সয়াবিন তেল ও খোলা পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এসব তেলের ক্ষেত্রে আগের নির্ধারিত মূল্যই বহাল থাকবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেই বোতলজাত ভোজ্যতেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয়, স্থানীয় বাজারের সরবরাহ পরিস্থিতি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।
এদিকে নতুন মূল্য ঘোষণার পর খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করতে পারে। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তেলের সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বাস্তবে দামে কিছুটা পার্থক্য দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও বাজার তদারকি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সয়াবিন তেল বাংলাদেশের মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের অন্যতম। রান্নার কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় এ পণ্যের দাম বাড়লে তা সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য লিটারপ্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধি মাসিক বাজার খরচে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।
নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি অব্যাহত রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



