প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য কৃষিঋণ মওকুফের বড় ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা বা তার কম পরিমাণ কৃষিঋণ নেওয়া ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এসব কৃষকের ব্যাংকঋণের দায় থেকে অব্যাহতি দিতে সরকার ব্যাংকগুলোর পাওনা হিসেবে ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন কৃষকদের ঋণ মওকুফের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ও এর আওতায় সুবিধাভোগীদের সংখ্যা তুলে ধরেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির আওতায় ঋণের মূল অর্থের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সুদের অর্থও মওকুফ করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সীমার মধ্যে ঋণ নেওয়া বিপুলসংখ্যক কৃষক ব্যাংকের ওই ঋণের দায় থেকে মুক্ত হয়েছেন। ঋণের অর্থ সরকার ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করায় সুবিধাভোগী কৃষকদের কাছ থেকে ওই পাওনা আদায়ের প্রয়োজনও থাকছে না।
দেশের সব উপজেলার কৃষকরাই এই সুবিধার আওতায় এসেছেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ফলে কর্মসূচিটি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ক্ষুদ্র পরিমাণ কৃষিঋণ নেওয়া কৃষকদের জন্য এটি সার্বিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
কৃষকের উৎপাদন কার্যক্রমে ঋণের গুরুত্ব অনেক। চাষাবাদের মৌসুমে বীজ, সার, সেচ, কৃষিশ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহে অনেক কৃষক ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া কিংবা উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেক সময় ঋণ পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ক্ষুদ্র কৃষিঋণ মওকুফের ফলে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারের এই পদক্ষেপের আওতায় মোট কত অর্থ ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করা হয়েছে, সেটিও সংসদে তুলে ধরা হয়েছে। ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ কৃষকের জন্য সরকারের পরিশোধ করা অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ ক্ষুদ্র পরিমাণ ঋণ নেওয়া কৃষকদের দায়মুক্ত করতে সরকারি অর্থ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার করদাতাদের বিষয়েও আলাদা তথ্য তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী করদাতার সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষে আয়কর বিবরণী জমা দিয়েছেন ২১ হাজার ৫৬৭ জন।
কৃষিঋণ মওকুফের তথ্য প্রকাশের পর কৃষক সহায়তা নিয়ে সরকারের উদ্যোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া কৃষকদের একটি বড় অংশ এই সুবিধার আওতায় আসায় ক্ষুদ্র কৃষকদের আর্থিক দায় কমানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে ভবিষ্যতে কৃষকদের ঋণনির্ভরতা কমানো এবং উৎপাদন খরচের সঙ্গে কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষিঋণ বিতরণ ও আদায়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



