রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া, কাটাতে সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া, কাটাতে সময় লাগবে: অর্থমন্ত্রী

সংগৃহীত

দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট আগের সরকারের সময় থেকে তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সংকট তৈরি করেনি; বরং আগের সরকারের রেখে যাওয়া জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই দায়িত্ব নিতে হয়েছে। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ কাজে লাগানো হচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে অর্থনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক এক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে মজুতের অবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। কোথাও কোথাও প্রয়োজনীয় মজুত ১৫ থেকে ১৭ দিনেরও কম ছিল। পরবর্তী সময়ে সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি করা হয়েছে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে মজুত এক মাসে উন্নীত হয়েছে। ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে অন্তত তিন মাসের মজুত নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

তিনি বলেন, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং এর প্রভাব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থার ওপরও পড়ছে। ফলে সংকট সমাধানে সরকার কাজ করলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাবে ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়া ব্যবসায়ীদের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঋণ পুনর্বিন্যাস ও নির্দিষ্ট সময়ের ছাড়সহ একটি সহায়তা কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের বাধার মুখে পড়লে বিষয়টি সরকারকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করার ওপরও গুরুত্ব দেন আমির খসরু। তার মতে, কাগজে-কলমে ঋণ দেখিয়ে রাখার পরিবর্তে প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরা প্রয়োজন। যেসব ঋণ ফেরত পাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নেই, সেগুলো নিয়ে স্বচ্ছ হিসাব তৈরি করে ব্যাংকের প্রকৃত তারল্য নিশ্চিত করতে হবে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার অর্থায়ন কর্মসূচির কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে এ ধরনের অর্থায়নে অনিয়ম ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের অভিযোগ থাকলেও এবার সে সুযোগ রাখা হবে না। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী উদ্যোক্তাদেরই ঋণ দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি শক্তিশালী করতে জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বচ্ছ ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্তমান সংকটও ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!