প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৬, ০১:৩২ পিএম
শিক্ষাব্যবস্থাকে দেশের চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা যেন কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা নিয়ে চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সাভারের ব্র্যাক সিডিএম কেন্দ্রে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা বিষয়ে আয়োজিত সংলাপে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। সেখানে উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার অগ্রাধিকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের বাজারকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের যে জ্ঞান ও দক্ষতা দেওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে কী ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে, সেটি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য শিক্ষা ও চাকরির বাজারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫ শতাংশ ধরে সরকার কাজ করছে। অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা খাতেও মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষায় বিনিয়োগকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখছে সরকার।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান ও অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রেও শুধু গবেষণার পরিমাণ বিবেচনা করলেই হবে না বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। একটি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে অর্থ ব্যয় করছে, কোন খাতে ব্যয় করছে এবং সেই ব্যয়ের মাধ্যমে শিক্ষার মান ও গবেষণার পরিবেশ কতটা উন্নত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম ও অর্থ ব্যবহারের বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন ও অবস্থান উন্নত হতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংলাপে দেশের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কর্মমুখী করে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।



