প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
চবি প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ ও উসমান হাদির লড়াই’ শীর্ষক ইনকিলাবি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৭ মে) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার অডিটোরিয়ামে ‘ইনকিলাব মঞ্চ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’ শাখার উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক শারমিন আক্তার এবং ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রভাষক মীম মিজান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ফাহিম আব্দুল্লাহ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান আসাদ এবং ইনকিলাব মঞ্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফজলে রাব্বি সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনকিলাব মঞ্চ, চবি শাখার আহ্বায়ক রাফসান রাকিব।
আলোচনায় ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, “বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা হলো ইসলামপন্থীরা সংস্কৃতি বোঝে না। যার কারণে এখানে শক্তিশালী ইসলামি সাংস্কৃতিক ধারা গড়ে ওঠেনি।”
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “ভারত কিংবা আমেরিকা সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। এ জন্য সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার বিকল্প নেই।”
শাহবাগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কেউ টিপ পরলেই বা কাঁধে ব্যাগ ঝুলালেই শাহবাগী হয়ে যায় না। শাহবাগ একটি মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফজলে রাব্বি সরকার বলেন, “উসমান হাদি মূলত সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনীতির মতো বৃহৎ কাঠামোগত উপাদানের মাধ্যমে ভারতীয় আধিপত্যবাদের সমালোচনা করতেন। তিনি মানুষের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি; বরং দক্ষ জনশক্তি গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।”
ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ফাহিম আব্দুল্লাহ বলেন, “উসমান হাদি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, জ্ঞানভিত্তিক চর্চাই এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রধান উপায়।”
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন।



