রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তরুণীর সঙ্গে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় আটক চবি ছাত্রদল নেতা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

তরুণীর সঙ্গে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় আটক চবি ছাত্রদল নেতা

ছবি: প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে নিয়ে ক্যাম্পাসসংলগ্ন জোবরা এলাকার একটি বাসায় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান। এ ঘটনায় নিজের সংশ্লিষ্টতা আড়াল করতে অন্য দুই শিক্ষার্থীর নাম জড়ানোর চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) গভীর রাতে জোবরা এলাকার চৌধুরী পুকুর ২ নম্বর রোডের কেজেএম টাওয়ার-সংলগ্ন একটি ভবন থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে মারধর করেন। এ সময় তার সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীও ছিলেন। জানা গেছে, ওই বাসায় ছাত্রদলের এই নেতা বসবাস করতেন।

ঘটনার পর ‘মিডিয়া অফ জোবরা-ফতেহপুর’ নামে একটি ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। প্রথমে সেখানে আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমানের নাম ‘সাকিব রহমান’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরে সেটি পরিবর্তন করে দুই শিক্ষার্থী রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজিফা তাসনিম প্রিয়ন্তীর নাম যুক্ত করা হয়।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা ওই দুই শিক্ষার্থী ঘটনার আগেই ঈদের ছুটিতে ক্যাম্পাস ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভে এসে বলেন, “২২ তারিখ আমি বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়িতে চলে এসেছি। বর্তমানে আমি সিরাজগঞ্জে অবস্থান করছি। সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের নাম জড়ানো হয়েছে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান এর আগে গণমাধ্যমকে বলেন, তার সঙ্গে থাকা ছাত্রীটি ভোরের বাসে যাওয়ার কথা ছিল। কয়েকজন মিলে রাতে ঘুরতে বের হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতির কারণে তিনি তাকে বাসার ভেতরে অপেক্ষা করতে বলেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে দরজায় ধাক্কা দেয় এবং পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।

তিনি দাবি করেন, “আমি গোসল করছিলাম। পরে দরজা খুললে তারা জানতে চায় বাসার ভেতরে কোনো মেয়ে আছে কি না। বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলেও তারা আমাদের মানিব্যাগ ও ল্যাপটপ নিয়ে যায়।”

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যায়কারী যে-ই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. কামরুল হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা হয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, গত বছরের চাকসু নির্বাচনে আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান ছাত্রদলের প্যানেল থেকে আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!