চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর পরিবেশবাদী সংগঠন 'আওয়ার গ্রীন ক্যাম্পাস'-এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘ক্লিন ক্যাম্পাস ডে’ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ক্যাম্পাসে যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সবুজ পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রথমে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে মানববন্ধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন সংগঠনটির সদস্যরা। এ সময় বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক , বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এবং ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ।
অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “মাত্র দুই বছরে আওয়ার গ্রীন ক্যাম্পাস অনেক দৃশ্যমান কাজ করে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে কীভাবে সবুজ রাখা যায়, সেটি নিয়েই আমরা কাজ করছি। আমাদের অনেক মানুষ প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজন পরিবেশ সচেতন একদল মানুষ, যারা পরিবেশের সঙ্গে মানুষের ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি করবে।”

মানববন্ধনে চবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে আওয়ার গ্রীন ক্যাম্পাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমরা বিশ্বাস করি, ছোট পরিসর থেকেই বড় পরিবর্তন সম্ভব। আজকের এই উদ্যোগ একদিন সারা দেশে পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন -এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) , আওয়ার গ্রীন ক্যাম্পাসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সংগঠনটির সভাপতি সহ সাধারণ সদস্যরা।
চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সবচেয়ে বড় ক্যাম্পাসগুলোর একটি, যেখানে নানা ধরনের প্রাকৃতিক প্রাণবৈচিত্র্য রয়েছে। এমন একটি ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। তবে দায়িত্বশীলতার জায়গায় অনেক সময় অবহেলা দেখা যায়, যা দূর করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে আওয়ার গ্রীন ক্যাম্পাসের সভাপতি মো. মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, “সবুজ ক্যাম্পাস সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার উদ্দেশ্যে আমরা প্রথমে মানববন্ধন এবং পরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছি। বুদ্ধিজীবী চত্বরে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান শেষে ব্যানার, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলে রাখা হয়, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া জরুরি এবং সেই সচেতনতা তৈরি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
মাতৃভূমির খবর