রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চবিতে ‘জাগ্রত জুলাই কালচারাল ফেস্ট’ শুরু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ১০:২০ পিএম

চবিতে ‘জাগ্রত জুলাই কালচারাল ফেস্ট’ শুরু

ছবিঃ প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) উদ্যোগে ‘জাগ্রত জুলাই কালচারাল ফেস্ট’ শুরু হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, আত্মত্যাগ ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা বিচার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুর রব হল মাঠে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। আয়োজকরা জানান, রাত ৯টা পর্যন্ত গ্রাফিতি প্রদর্শনী চলবে। এছাড়া বিকেলে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটাতে তরুণদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে অনন্য। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অপরাধের হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার, ট্রুথ কমিশন গঠন, শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন এবং পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও আমলাতন্ত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে সংক্রমণকালীন বিচার (ট্রানজিশনাল জাস্টিস) নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, জুলাই আন্দোলন মানুষকে ভীতিহীনভাবে কথা বলার সাহস এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। তিনি শহীদদের আত্মত্যাগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় রাজনীতির প্রভাব ক্যাম্পাসে টেনে আনা উচিত নয়। শিক্ষা ও গবেষণার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব ছাত্রসংগঠনকে সহাবস্থান ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

চাকসুর সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট মো. জসিমউদ্দীন সরকার বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে থাকা অভিযোগগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি, রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান সংশোধন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন জরুরি। তিনি শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখারও আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই ‘জাগ্রত জুলাই কালচারাল ফেস্ট’-এর আয়োজন করা হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!