প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ০৪:৩৪ পিএম
রাজধানীর নিউ বেইলি রোডের ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানে এমন ফলাফল মেনে নেওয়া যায় না। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ব্যবস্থায় নানামুখী সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত সমাধান না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট দেখা দেবে।
রোববার সকালে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটকের সামনে এক মানববন্ধনে অংশ নিয়ে অভিভাবকেরা অভিযোগ করেন, প্রতি মাসে বেতনের সঙ্গে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ করতে হবে। বোর্ড পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানের বাইরে কেন্দ্র নির্ধারণ করার কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে এবং ফলাফল খারাপ হয়। এ ছাড়া স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশরুম ও আধুনিক ল্যাব স্থাপনের দাবি জানান তারা।
অভিভাবকেরা আরও বলেন, অস্থায়ী বা প্রশিক্ষণহীন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেওয়া চলবে না। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে। বছরের শুরুতে নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী পাঠদান ও পরীক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বছরের মাঝপথে সিলেবাস পরিবর্তন করা যাবে না।
তাদের দাবির মধ্যে আরও রয়েছে—প্রতিটি শাখায় কার্যকর জেনারেটর ব্যবস্থা চালু রাখা, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে তাৎক্ষণিক বিকল্প আলো-হাওয়া নিশ্চিত করা, ডিজিটাল সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে ক্লাসের মান উন্নয়ন করা, এবং ধানমন্ডি শাখাকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে রূপান্তর করা।
অভিভাবকেরা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ক্লাসে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে হবে। তবে প্রয়োজনে অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রতিটি শাখায় শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে দুটি ফোন রাখা যেতে পারে।
তারা আরও দাবি জানান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যাচ চালু করে তাদের শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হবে। অধ্যক্ষকে প্রতি সপ্তাহে শাখা প্রধানদের নিয়ে পাঠদান তদারকি করতে হবে। স্কুল ও কলেজ ক্যান্টিনে বিক্রি হওয়া খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ এবং বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত অভিভাবকেরা বলেন, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এক সময় দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ছিল। সেই মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে হলে শিক্ষক নিয়োগ, পাঠদান পদ্ধতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, যাতে আগামী বছরগুলোতে আর কোনো ছাত্রীকে এমন হতাশার মুখ দেখতে না হয়।



