প্রকাশিত: অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ০৬:২৩ পিএম
এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা আর দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারবেন না। যেসব শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে, জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অনেক শিক্ষক আছেন যারা ক্লাস না নিয়ে অন্য কাজে সময় দেন। অথচ সরকার এমপিওভুক্ত কার্যক্রমের আওতায় তাদের বেতন দিচ্ছে। তাই এখন সময় এসেছে, তাদের দায়বদ্ধতার মধ্যে আনার।”
তিনি আরও বলেন, “আইনের মধ্যেই শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে, কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। এবার আমরা আইনের আওতায় থেকেই একটি বৃহত্তর জবাবদিহিতা কাঠামো তৈরি করছি।”
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, যেসব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাসের হার ১০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের কারণ অনুসন্ধান করা হবে। একইভাবে যেসব প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করছে, সেগুলোর প্রধানদেরও ডেকে সফলতার মডেল বিশ্লেষণ করা হবে।
সি. আর. আবরার বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতোই এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও কঠোর মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। এতে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।”
তিনি আরও জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান অপ্রয়োজনীয়ভাবে এমপিওভুক্ত হয়েছে এবং যেখানে ছাত্রসংখ্যা কম অথচ শিক্ষকসংখ্যা বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন বা মার্জ করা যায় কি না, তা নিয়েও সরকার ভাবছে।
তার ভাষায়— “একটি প্রতিষ্ঠানে ১৫-২০ জন শিক্ষক বেতন পাচ্ছেন, অথচ পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ১০-১২ জন শিক্ষার্থী— এটা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়। এমন অনিয়ম আর চলবে না।”
সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টার এই ঘোষণা শিক্ষাক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা ও মানোন্নয়নের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।



