প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৮:০৮ এএম
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাকেরগঞ্জ সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচ এম জাফর আহমেদ। গত ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের প্রতিযোগিতায় নির্ধারিত সকল মানদণ্ড পূরণ করে তিনি এই গৌরবজনক স্বীকৃতি অর্জন করেন।
উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী অবদান, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা, সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক মানোন্নয়নের ধারাবাহিকতা বিবেচনায় নিয়ে তাকে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচন করা হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে তার এই অর্জন বাকেরগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য যে, প্রধান শিক্ষক এইচ এম জাফর আহমেদ এর আগেও ২০২২ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। একাধিকবার এই সম্মাননা প্রাপ্তি তার দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও শিক্ষার প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ স্কাউটস, বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।
শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, জাতীয় পর্যায়েও তার দক্ষতার স্বীকৃতি মিলেছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তিনি ভারতের চেন্নাইয়ে আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য মনোনীত হন। ওই প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি বিদ্যালয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এইচ এম জাফর আহমেদ বলেন,
“আমি চাই, আমাদের প্রতিটি ছাত্রছাত্রী কঠোর অধ্যবসায় ও শ্রমের মাধ্যমে নিজের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাক। একদিন না একদিন সফলতা অবশ্যই ধরা দেয়। যদি আমাদের সমাজে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের অবস্থান থেকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে, তাহলে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন অনেকটাই সহজ হবে।”
তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ যদি গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সমাজ থেকে অপরাধ ও বেকারত্ব অনেকাংশে দূর হবে। এর মাধ্যমে শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামগ্রিক সামাজিক কল্যাণও নিশ্চিত হবে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মহল এই অর্জনে প্রধান শিক্ষক এইচ এম জাফর আহমেদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার এই সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।



