প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২৬, ০৮:১৮ এএম
লিভারজনিত গুরুতর জটিলতায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন কনটেন্ট নির্মাতা ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। উন্নত চিকিৎসার আশায় ভারতে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানতে হলো তাকে। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন অঙ্গন, সহকর্মী এবং ভক্তদের মাঝে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন কারিনা। শুরুতে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে সংক্রমণের বিষয়টি ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানান, একই সঙ্গে হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হওয়ায় তার লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং পরে জীবনরক্ষাকারী সহায়তায় রাখা হয়।
প্রথমদিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উন্নত চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর গত সোমবার রাতে বিশেষ আকাশযানে করে তাকে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানে একটি বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে তাকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা শুরুতে তার ফুসফুসের চিকিৎসা জোরদার করেন। পাশাপাশি লিভার প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতিও চলছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে গভীর রাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
কারিনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার বাবা, দেশের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। তিনি জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটা থেকে পৌনে একটার মধ্যে কারিনা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মেয়ের মৃত্যুর শোকে ভেঙে পড়া এই সাবেক ফুটবলার বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার তার মরদেহ দেশে আনা হতে পারে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এরপর পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা এবং ব্যতিক্রমধর্মী নির্মাণশৈলীর মাধ্যমে তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন কারিনা কায়সার। হাস্যরস, বাস্তব জীবন এবং সমসাময়িক বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি তার নানা উপস্থাপনা দ্রুত দর্শকের নজর কাড়ে। ধীরে ধীরে তিনি অভিনয়জগতেও নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে শুরু করেন।
কেবল অভিনয়েই সীমাবদ্ধ ছিলেন না কারিনা। চিত্রনাট্য রচনার কাজেও নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন তিনি। নাটক ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে তার কাজ দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করে। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে ছিল ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’—যেখানে অভিনয় ও গল্প নির্মাণে তিনি নিজস্ব ছাপ রাখার চেষ্টা করেছেন।
সহকর্মীদের অনেকেই মনে করেন, কারিনা ছিলেন পরিশ্রমী, প্রাণবন্ত এবং স্বপ্নবাজ একজন মানুষ। খুব অল্প সময়ে তিনি নিজেকে পরিচিত মুখে পরিণত করেছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন গল্প ও নির্মাণ নিয়ে তার পরিকল্পনাও ছিল বিস্তর। কিন্তু সেই স্বপ্নগুলো আর বাস্তবে রূপ নিল না।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তার ঢল নামে। সহশিল্পী, নির্মাতা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তরা স্মৃতিচারণ করে শোক প্রকাশ করছেন। অনেকে লিখেছেন, কারিনার হাসিখুশি উপস্থিতি এবং সহজ-সরল উপস্থাপনা দীর্ঘদিন মনে থাকবে।
বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই তার অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রতিভাবান এক তরুণ মুখকে হারালো দেশের অভিনয় ও নির্মাণ অঙ্গন। জীবনযুদ্ধে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত আর ফিরে আসতে পারলেন না তিনি। তবে তার কাজ, স্মৃতি এবং দর্শকের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে কারিনা কায়সার বেঁচে থাকবেন দীর্ঘদিন।



