প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও ব্যাপক প্রচারণার পর মুক্তি পাওয়া বহুল আলোচিত ‘সুপারগার্ল’ সিনেমা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিপুল ব্যয়ে নির্মিত এই ছবি মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই আশানুরূপ দর্শক টানতে ব্যর্থ হওয়ায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান আয় অব্যাহত থাকলে এটি বছরের অন্যতম আলোচিত বাণিজ্যিক ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে।
জানা গেছে, ছবিটি নির্মাণে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণা ও বিপণনের জন্য আরও ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করা হয়। অর্থাৎ সব মিলিয়ে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু মুক্তির প্রথম সপ্তাহে উত্তর আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবিটির আয় হয়েছে মাত্র ৩৭ দশমিক ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিশ্বব্যাপী মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা নির্মাতাদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের বড় বাজেটের ছবি লাভের মুখ দেখতে হলে বিশ্বব্যাপী অন্তত ৩৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় প্রয়োজন হয়। কারণ প্রেক্ষাগৃহের অংশ, বিপণন ব্যয় এবং অন্যান্য খরচ বাদ দিলে এর নিচের আয় দিয়ে বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া কঠিন। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্লেষকদের ধারণা, ছবিটির মোট আয় ২০০ থেকে ২১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এমন হলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে ৮০ থেকে ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ‘সুপারগার্ল’ চরিত্রটি দর্শকদের কাছে অন্যান্য জনপ্রিয় সুপার নায়কদের মতো শক্তিশালী আবেদন তৈরি করতে পারেনি। পাশাপাশি একই সময়ে মুক্তি পাওয়া একাধিক বড় বাজেটের ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়াও ছবিটির আয় কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নবাগত অভিনেত্রী মিলি অ্যালকক। জানা গেছে, তিনি তুলনামূলক কম পারিশ্রমিক নিয়েই কাজ করেছেন এবং ছবির আয়ের ওপর অতিরিক্ত অংশ পাওয়ার কোনো চুক্তিও ছিল না। ফলে অভিনয়শিল্পীদের পারিশ্রমিক নির্মাতাদের অতিরিক্ত চাপ তৈরি না করলেও সামগ্রিক বিনিয়োগের তুলনায় আয়ের ঘাটতি বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এটি চলতি বছরে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় বড় বাণিজ্যিক ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে মুক্তিপ্রাপ্ত আরেকটি বড় বাজেটের ছবিও প্রত্যাশিত আয় করতে পারেনি। যদিও এর আগে মুক্তি পাওয়া ‘সুপারম্যান’ বিশ্বজুড়ে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছিল এবং সেই সাফল্যকে ভিত্তি করেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল।
তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ছবির ফলাফল দিয়ে পুরো পরিকল্পনা মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবিষ্যতেও নতুন নতুন গল্প ও চরিত্র নিয়ে কাজ চলবে এবং তারা এখনো নিজেদের পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন নিয়ে আশাবাদী।



