প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রকাশিত ভিডিওকে ঘিরে নতুন করে আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্দোলন নিয়ে অবমাননাকর ও কটাক্ষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি এবং আরও একজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, একটি সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সেটি প্রয়োজনীয় তদন্তের জন্য মহানগর পুলিশের সাইবার অপরাধ তদন্ত শাখায় পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আন্দোলনে প্রাণহানি ও আহতদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু বক্তব্য ও দৃশ্য প্রকাশ করেছেন, যা আন্দোলন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি অসম্মানজনক বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তির প্রকাশিত একটি ভিডিওতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভকে ঘিরে আপত্তিকর আচরণের দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি বিভিন্ন ভিডিও বার্তায় জুলাই আন্দোলন সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। একইভাবে অভিনেত্রী মাহিয়া মাহির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনকে বিদ্রূপ করেছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধ তদন্তকারী দল প্রকাশিত বক্তব্য, ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



