প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পরিণতি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত পটভূমি বোঝা সম্ভব নয়।
শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে সভাটির আয়োজন করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এর ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, কেউ যদি মনে করেন মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের মধ্যেই এর সবকিছু সীমাবদ্ধ, তাহলে সেটি রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে অপরিপক্ব ধারণার পরিচয়।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যবহার করে কেউ রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা সফল হবে না। নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলা হলেও অনেক ক্ষেত্রেই পুরোনো রাজনৈতিক ধারা অনুসরণ করা হচ্ছে। রাজনীতির পথ কঠিন ও নানা প্রতিবন্ধকতায় পূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ ও রাজপথে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যার মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়।
আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামও বক্তব্য দেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, কোনো অন্যায়কারীর শাস্তি নিশ্চিত করা প্রতিহিংসা নয়; বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অংশ।
উপাচার্য আরও বলেন, অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিন্নমতের শিক্ষকদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত ছিল। শিক্ষকরা বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন। জাতীয় সংকট ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল।
সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষকদের ভূমিকা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।



