রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৬, ১০:০২ পিএম

চবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত

ছবি: প্রতিনিধি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান এর স্মরণে  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত  দুই দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস - ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

৫ আগস্ট ( বুধবার)  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অডিটোরিয়ামে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়
এই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সকাল ১১ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরোপয়েন্ট চত্বর থেকে এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিশ্বিবদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড: আল ফোরকান। বৃষ্টি  উপেক্ষা করেও  সমাবেশের  মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য, উপ -উপাচার্য সহ সবাই সমাজবিজ্ঞান অনুষদে উপস্থিত হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস - ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এই সভা সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ - উপাচার্য( প্রসাশন)  প্রফেসর ড. মো: সফিকুল ইসলাম এবং সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য ( একাডেমিক)  প্রফেসর ড. মো: আল আমীন।  পাশাপাশি উদ্বোধক ও প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান। 

এই সভা ও সেনিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে শহীদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র শহীদ ফরহাদ হোসেনের বড়ভাই গোলাম কিবরিয়া।  উপস্থিত ছিলেন শহীদ হৃদয় চন্দ্র তড়ুয়ার বাবা।

প্রফেসর ড. মো: আল আমীন বলেন,  " ইতিহাস থেকে আমরা দেখতে পায় যে গনঅভ্যুত্থান, বিপ্লব এগুলো আকস্মিক ভাবে হয় না, জুলাই গনঅভ্যুত্থান ও আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘ  নির্যাতন, গুম, খুন এর ফসল এই জুলাই আন্দোলন। "  

এছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের  জাদুঘর পরিচালক  মোহাম্মদ জাহিদর রহমান এর একটি প্রবন্ধ তুলে ধরা হয় এই সেমিনারে। প্রবন্ধটির নাম হচ্ছে "ইতিহাসের আয়নায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান : ভাবাদর্শের রুপান্তর ও বাস্তবতার অভিঘাত। "  

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে  অতীশ দীপঙ্কর হলের প্রভোস্ট এজিএম নিয়াজ উদ্দিন অধ্যাপক জাহিদুর রহমানের প্রবন্ধের সমালোচনা করে  বলেন , "  তিনি ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত একরৈখিক আলোচনা না করে আরও আগের  ইতিহাস তুলে ধরতে পারতেন।  এবং ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সময়টা নিয়ে তিনি কিছু  বলতে পারতেন। " তিনি আরও বলেন,  "  এই গনঅভ্যুত্থান এখন কেন হলো? আগে কেনো হলো না?  এ প্রশ্ন গুলোর উত্তরে তিনি বলেন, আগে ফ্যাসিস্ট সরকার বিএনপি জামায়াত এবং বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক সদস্যদের হত্যা করা এক প্রকার জায়েজ করে রেখেছিল। কিন্তু ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে যখন আবু সাঈদ এবং  ওয়াসিম আকরামরা যখন শহীদ হলো তখন মানুষ বুঝে গেল যে আগের গুম খুন গুলো ছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের টিকে থাকারই একটি কৌশল। "

চাকসুর এজিএস আউবুর রহমান তৌফিক উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন বলেন,  " চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক টেলিগ্রাম গ্রুপে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করছেন। আপনি অবিলম্বে তাদের বিপক্ষে ব্যবস্থা নিবেন,  নাহলে আমরা সেসব শিক্ষকদের তালিকা আমরা জিরোপয়েন্টে দিয়ে দিব।" 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো: আল ফোরকান বলেন," আমরা সিনেটে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে শহীদ দের পরিবারকে আমরা চাকরির ব্যবস্থা করব। এবং তাদের সম্মানজনক অবস্থা নিশ্চিত করব। " 

দুপুর ২ টা নাগাদ অনুষ্ঠানে উপস্তিত হন ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয় এর প্রতিমন্ত্রী  ব্যারিস্টার  মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, " এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে দেশদ্রোহী ভূমিকায়  দেখা যাচ্ছে। অবিলম্বে তাদের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  " তিনি আরও বলেন,  জুলাই সনদ অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। " এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি সকল রাজনৈতিক ভাবাদর্শের লোকদের একত্রিত হওয়া আহবান জানান।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!