প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৬, ১১:০৭ এএম
ইতালির রোমে নগরবাউল জেমসের কনসার্টকে ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কনসার্টের আয়োজনে অর্থের হিসাব নিয়ে জটিলতা, প্রতারণার অভিযোগ এবং হোটেলের কক্ষ অপরিষ্কার অবস্থায় রেখে যাওয়ার মতো বিষয় নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে জেমসের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন তার মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন।
গত ১৬ আগস্ট রোমে একটি কনসার্টে অংশ নিতে জেমস ও তার সফরসঙ্গীরা একটি হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে অবস্থান করেন। পরে তারা হোটেল ছাড়ার পর একটি কক্ষের ভেতরের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে মেঝেতে ব্যবহৃত পানির বোতল, বিভিন্ন আবর্জনা, খাবারের উচ্ছিষ্ট ও ব্যবহৃত সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যায়। রান্নাঘরের অংশেও অপরিষ্কার থালা-বাসন ও অন্যান্য জিনিস পড়ে থাকার দৃশ্য দেখা যায়।
হোটেল কর্তৃপক্ষ আয়োজকদের কাছে পাঠানো বার্তায় কক্ষটির অপরিষ্কার অবস্থার কথা জানায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ওই হোটেলে অবস্থান করতে হলে অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার জন্য অন্তত ২০০ ইউরো পরিশোধ করতে হবে বলে জানানো হয়। কক্ষটি নির্ধারিত নিয়ম মেনে হস্তান্তর করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।
তবে জেমসের মুখপাত্রের দাবি, অভিযোগ ওঠা কক্ষটিতে জেমস অবস্থান করেননি। তাদের মোট চারটি কক্ষ ছিল এবং জেমস আলাদা একটি কক্ষে ছিলেন বলে জানান তিনি। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কক্ষটিতে দলের অন্য একজন সংগীতশিল্পী ছিলেন। তাই ওই কক্ষের অবস্থার দায় জেমসের ওপর চাপানো সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন রবিন।
এদিকে কনসার্টের আয়োজক হোসাইন আহমেদ জেমসের দল ও আয়োজকদের মধ্যে অর্থনৈতিক হিসাব নিয়ে জটিলতার অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, কনসার্টের অগ্রিম অর্থ ও টিকিট বিক্রির অর্থের হিসাব নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশকেও ডাকা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে রবিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কনসার্টটি চুক্তির ভিত্তিতেই আয়োজন করা হয়েছিল। চুক্তির কোনো শর্ত ভঙ্গ হয়ে থাকলে আয়োজকরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, কনসার্ট শেষে জেমসের দল ইতালিতেই রয়েছে এবং পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। জেমসের পক্ষ থেকে বিষয়গুলোকে আয়োজকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফল হিসেবে দাবি করা হয়েছে। ফলে রোমের কনসার্ট ঘিরে ওঠা অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।



