প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
দেশে প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে ফার্মে উৎপাদিত মুরগির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তুলনামূলক কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় অধিকাংশ পরিবারের খাদ্যতালিকায় এটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—ফার্মের মুরগি খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফার্মে উৎপাদিত মুরগি নিজে কোনো ক্ষতিকর খাদ্য নয়। বরং এটি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চমানের আমিষ, বিভিন্ন ভিটামিন এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানের ভালো উৎস। তবে এর নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভর করে উৎপাদন পদ্ধতি, পরিচর্যা, সংরক্ষণ এবং রান্নার মানের ওপর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু খামারে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য ওষুধ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত নিয়ম মেনে তা ব্যবহার না করলে মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন খাদ্য গ্রহণ করলে জীবাণুর বিরুদ্ধে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
মুরগিকে দ্রুত বড় করার জন্য নিয়মিত হরমোন ব্যবহার করা হয়—এমন ধারণা সমাজে প্রচলিত থাকলেও এর পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আধুনিক প্রজনন পদ্ধতি, উন্নত খাদ্য এবং খামার ব্যবস্থাপনাই দ্রুত বৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে জবাই, পরিবহন বা সংরক্ষণ করা হলে ক্ষতিকর জীবাণুর সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই মাংস কেনার সময় সতর্ক থাকা এবং ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পুষ্টিবিদদের মতে, চামড়াবিহীন মুরগির মাংস পরিমিত পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখলে তা সুস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এতে শরীরের বৃদ্ধি, পেশিশক্তি বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, বিশ্বস্ত উৎস থেকে মুরগি কিনতে হবে, অস্বাভাবিক গন্ধ বা রঙের মাংস এড়িয়ে চলতে হবে এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখতে হবে। সর্বোপরি, সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।



