প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে যশোর সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদালতের আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর সকালে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। পরে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি জানান, সম্প্রতি রাঙ্গুনিয়া এলাকায় এক রাজনৈতিক নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া এক সন্ত্রাসীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, বিদেশে অবস্থানকারী এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী ডেভিড ইমন ও তার সহযোগী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছেন। এরপর গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং বিভিন্ন জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান পরিবর্তন করায় তাকে গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অবশেষে মঙ্গলবার গভীর রাতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ঝুমঝুমপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ডেভিড ইমনকে চার সহযোগীসহ আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই সময়ে তার আরেক সহযোগীকে গ্রেপ্তারের জন্য নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হলেও তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তাকে আটকের জন্য অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। এছাড়া পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।



