প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তারের পর শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। দেশটির একটি আদালত গত ২৭ জুলাই তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ জুলাই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। তবে আদালতের নির্ধারিত একাধিক শর্ত মেনে তাকে আপাতত সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করতে হবে।
কারামুক্তির পর বেনজীর আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন। তবে চলমান বিচারিক কার্যক্রমের কারণে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জামিনের শর্ত হিসেবে বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এসব শর্ত বহাল থাকবে।
জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট আইনি তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর আদালত তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি সহায়তার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় এবং একাধিক মামলার ভিত্তিতে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।



