প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকারি ব্যয় সীমিত ও নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যয় পরিচালনা করতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আপ্যায়ন খাতে অব্যয়িত অর্থের সর্বোচ্চ অর্ধেক এবং দেশীয় প্রশিক্ষণ খাতে সর্বোচ্চ অর্ধেক ব্যয় করা যাবে। তবে সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান পরিচালিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এ সীমার বাইরে থাকবে।
সরকারি অর্থায়নে সকল ধরনের বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভ্রমণ খাতে বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। পাশাপাশি সেমিনার ও সম্মেলন খাতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ব্যয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে এ খাতে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, মোটরযান, নৌযান ও আকাশযান ক্রয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ সম্পূর্ণভাবে স্থগিত থাকবে। একইভাবে কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ক্রয়েও ব্যয় বন্ধ থাকবে।
ভবন নির্মাণ খাতে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। তবে কোনো প্রকল্পের কাজ ৭০ শতাংশ বা তার বেশি সম্পন্ন হলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা যাবে। অভ্যন্তরীণ শোভাবর্ধন খাতেও ব্যয় অর্ধেকে সীমিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে এ খাতে ব্যয় করা যাবে। সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি ক্রয়ে সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম সুবিধাও আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সতর্ক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



