রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাসের পর এবার রেলভাড়া বা’ড়ানোর উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম

বাসের পর এবার রেলভাড়া বা’ড়ানোর উদ্যোগ

ফাইল ছবি

বাসভাড়া বৃদ্ধির চাপ কাটতে না কাটতেই এবার রেলভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত যাত্রীদের জন্য এটি নতুন করে আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনের ভাড়া অপরিবর্তিত থাকলেও বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রেল কর্তৃপক্ষ ভাড়া সমন্বয়ের চিন্তা করছে।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ট্রেন পরিচালনার সবচেয়ে বড় ব্যয় জ্বালানি খাতে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ফলে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিদিন ট্রেন চালাতে প্রায় এক লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি প্রতি লিটার ডিজেলের দাম বাড়ায় প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় পনেরো লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। বছরে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় চুয়ান্ন কোটি টাকারও বেশি।

এ ছাড়া ট্রেনের যন্ত্রাংশ আমদানি, বগি মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার দামের ওঠানামার কারণে আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশের খরচ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে রেলওয়ের সার্বিক ব্যয়ভার আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে।

প্রতি বছর এই খাতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হয়। এই ভর্তুকির চাপ কমাতেই ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাড়া সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে। তার মতে, ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো যৌক্তিক হতে পারে, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আগের তুলনায় ডিজেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় রেলওয়েকে এখন মজুত জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই মজুত দিয়ে সীমিত সময় পর্যন্ত ট্রেন চালানো সম্ভব হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে জ্বালানি বিল বাবদ রেলের বকেয়া অর্থও বেড়েছে। আগে যেখানে এই বকেয়া ছিল প্রায় একশ কোটি টাকা, বর্তমানে তা তিনশ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই অর্থ পরিশোধে নতুন অর্থবছরে বাড়তি বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

কম খরচে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের জন্য ট্রেন দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছিল। তবে ভাড়া বাড়ানো হলে সেই সুবিধা সীমিত হয়ে যাবে বলে মনে করছেন যাত্রীরা। এতে দৈনন্দিন যাতায়াতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ঢাকা-গাজীপুর রুটের এক নিয়মিত যাত্রী বলেন, কম খরচ ও সময় সাশ্রয়ের কারণে তিনি ট্রেনেই যাতায়াত করেন। কিন্তু বাসভাড়া বাড়ার পর ট্রেনই ছিল একমাত্র ভরসা। এখন ট্রেনের ভাড়াও বাড়লে সাধারণ মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়বে।

যদিও এখনো ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া বাড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!