রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শিক্ষকদের বেতন-বোনাস নিয়ে নতুন নির্দেশনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

শিক্ষকদের বেতন-বোনাস নিয়ে নতুন নির্দেশনা

প্রতীকী ছবি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের মে মাসের বেতন এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে উৎসব ভাতার বিল যথাসময়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। শিক্ষা খাতে আর্থিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুত করার লক্ষ্যে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বুধবার অধিদপ্তরের অধীন এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম শাখার এক প্রোগ্রামার সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অনলাইন সিস্টেমে সকল শিক্ষক-কর্মচারীর প্রাপ্য বেতন ও উৎসব ভাতার তথ্য সঠিকভাবে প্রবেশ করাতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিজ নিজ ব্যবহারকারী পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অনলাইন ব্যবস্থায় প্রবেশ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার পৃথক হিসাব তৈরি করে বিল জমা দেবেন। এতে কোনো ধরনের ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধন করে পুনরায় জমা দিতে হবে।

আরও জানানো হয়, মে মাসের বেতন সংক্রান্ত তথ্য জমা দেওয়ার কার্যক্রম পরবর্তী দিনের শুরু থেকেই চালু হবে। অন্যদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেওয়া বিশেষ ভাতার বিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে পৃথক নির্দেশনা দ্রুতই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী যদি চাকরিতে না থাকেন, অবসর গ্রহণ করেন বা মৃত্যুবরণ করেন, তবে তার ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণ করে যথাযথভাবে বিল প্রস্তুত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা প্রশাসন বলছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রক্রিয়া বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা অনলাইনে তথ্য প্রদান করার পর তা যাচাই-বাছাই করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের মাধ্যমে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও উৎসব ভাতা ছাড় করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অনলাইন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছে শিক্ষা প্রশাসন।

শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো বেতন ও উৎসব ভাতা পেলে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়। বিশেষ করে উৎসবের আগে বেতন-বোনাস পেলে পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে যায়।

এদিকে নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল জমা না দিলে পরবর্তী ধাপে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তাই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সময়মতো এবং সঠিকভাবে তথ্য প্রদান করতে বলা হয়েছে।

শিক্ষা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে শিক্ষক সমাজ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে বেতন ও ভাতা প্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘসূত্রতা কমে দ্রুত অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!