প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগে অনৈতিক প্রভাব এবং পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রেষণে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিক্ষা ক্যাডারের যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ অথবা শাখাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া যাবে। সরকারের মতে, এ পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার পরিবেশকে আরও কার্যকর করা।
জানা গেছে, গত বছরের শেষ দিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ-সংক্রান্ত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনে। সংশোধিত বিধানে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে প্রয়োজন হলে সরকার উপযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা অথবা শিক্ষা ক্যাডারের কোনো কর্মকর্তাকে প্রেষণে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি, পরিচালনা পর্ষদের স্বেচ্ছাচারিতা এবং শিক্ষার মানের অবনতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জমা পড়ছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর তদন্ত করবে। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনাই করবেন না, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমও পরিচালনা করবেন। এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উন্নত শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
তবে শিক্ষাবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, শুধু কর্মকর্তা নিয়োগ করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের মতে, প্রতিটি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কার্যক্রমের ওপর কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নতুন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



