রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টানা পতনে নির্মাণ খাত, চাপে ইস্পাত শিল্প

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

টানা পতনে নির্মাণ খাত, চাপে ইস্পাত শিল্প

ছবি: সংগৃহীত

দেশের নির্মাণ খাত টানা তিন মাস ধরে সংকোচনের ধারায় রয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোর ওপর। বিশেষ করে ইস্পাত শিল্প এখন সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে। নির্মাণ কার্যক্রম কমে যাওয়ায় বাজারে চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানই উৎপাদন ও বিক্রি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

রাজধানীর গুলশানে ব্যবসায়িক সংগঠন ও গবেষণা সংস্থার যৌথ আয়োজনে এক বৈঠকে এই পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, নির্মাণ খাতে ধারাবাহিক পতনের কারণে দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দুর্বল হয়ে পড়ছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিয়মিতভাবে চারটি প্রধান খাত—কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা—নিয়ে একটি সূচক নির্ধারণ করা হয়, যা অর্থনীতির গতি নির্দেশ করে। এই সূচকে ৫০-এর নিচে মান থাকলে সেটিকে সংকোচন এবং ৫০-এর ওপরে থাকলে সম্প্রসারণ হিসেবে ধরা হয়।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচক কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি সম্প্রসারণের ধারায় থাকলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে নির্মাণ খাতে।

কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে, যেখানে সূচক ছিল প্রায় ৭০-এর কাছাকাছি। উৎপাদন খাতও কিছুটা শক্ত অবস্থানে রয়েছে, আর সেবা খাত স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। কিন্তু নির্মাণ খাত একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে সংকোচনের মধ্যে রয়েছে, যার সূচক নেমে এসেছে ৪৫-এর নিচে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্মাণ খাতের এই ধারাবাহিক পতন গত কয়েক মাসের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মন্থরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। জানুয়ারিতে এই খাত কিছুটা সম্প্রসারণে থাকলেও পরের মাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে পতন দেখা যায়। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত পরিস্থিতি প্রায় একই থাকলেও এপ্রিল মাসে তা আরও খারাপ অবস্থায় পৌঁছে যায়।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সরকারি ও বেসরকারি নির্মাণ প্রকল্প কমে যাওয়া, ব্যাংক ঋণ প্রবাহে ধীরগতি এবং কাঁচামালের মূল্য অস্থিরতা এই সংকটের প্রধান কারণ। এর প্রভাব সরাসরি ইস্পাত, সিমেন্ট এবং নির্মাণসামগ্রী খাতে পড়ছে।

ব্যবসায়িক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, নির্মাণ কার্যক্রম কমে যাওয়ায় অনেক ইস্পাত কোম্পানি উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছে।

গবেষণা সংস্থার এক প্রতিনিধির মতে, এই সূচক শুধু অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা নয়, ভবিষ্যৎ প্রবণতাও নির্দেশ করে। কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে এই সূচক তৈরি করা হয়, যা থেকে বোঝা যায় কোন খাত কতটা সক্রিয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও এই ধরনের সূচককে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। উন্নত দেশগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ হলো, নির্মাণ খাতকে পুনরায় চাঙ্গা করতে সরকারি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং ব্যাংকিং খাতে সহজ শর্তে ঋণ প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি।

তারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই সংকোচন অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী মাসগুলোতে ইস্পাত ও সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলো আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!