প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে দেশের অন্যতম গণপরিবহন খাত রেলপথে। ঈদ সামনে রেখে অগ্রিম টিকিট সংগ্রহে যাত্রীদের আগ্রহও চোখে পড়ার মতো। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম। আজ বিক্রি করা হচ্ছে আগামী ২৪ মে যাত্রার টিকিট।
বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, এবারও যাত্রীদের সুবিধা ও ভোগান্তি কমাতে শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন কিংবা টিকিট নিয়ে অনিয়ম কমবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে বিশেষ পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে রেলওয়ে বিভাগ।
রেলওয়ের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলগামী আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হবে দুপুর ২টা থেকে। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার পরপরই যাত্রীরা দ্রুত টিকিট সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে কয়েক ধাপে অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বুধবার বিক্রি হয়েছে ২৩ মে যাত্রার টিকিট। আগামী ১৫ মে বিক্রি হবে ২৫ মে’র টিকিট। এরপর ১৬ মে দেওয়া হবে ২৬ মে’র এবং ১৭ মে বিক্রি করা হবে ২৭ মে’র যাত্রার টিকিট।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী দিনের টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা করা হবে। বিশেষ করে ২৮, ২৯ ও ৩০ মে যাত্রার টিকিট বিক্রির তারিখ পরে জানানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
এবারের ঈদযাত্রায় একজন যাত্রী একবারে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। তবে এই অগ্রিম টিকিট কোনোভাবেই ফেরত দেওয়া বা বাতিল করার সুযোগ রাখা হয়নি। যাত্রীদের সঠিক পরিকল্পনা নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থাও নিয়েছে রেলওয়ে। যাত্রার দিন মোট আসনের ২৫ শতাংশ টিকিট দাঁড়িয়ে ভ্রমণের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। এসব টিকিট শুধুমাত্র স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে। তবে উচ্চ শ্রেণির আসনের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে ভ্রমণের কোনো সুযোগ থাকছে না।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। ফলে অনলাইনে টিকিট বিক্রি চালু হওয়ার পরেও প্রথম কয়েক মিনিটেই অধিকাংশ টিকিট শেষ হয়ে যায়। এবারও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। যাত্রীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই অনলাইনে প্রবেশ করে অপেক্ষা করছেন।
অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, অতিরিক্ত চাপের কারণে অনলাইন ব্যবস্থা ধীরগতির হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ আবার নির্ধারিত সময়েও প্রবেশ করতে না পারার কথা জানিয়েছেন। তবে রেলওয়ে বলছে, সার্ভারের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং যাত্রীদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে শুধু টিকিট ব্যবস্থাপনা নয়, ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা ও নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্টেশন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা, যাত্রী নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রেন পরিচালনায় বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
রেলওয়ে আরও জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত বগি সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে, যাতে টিকিট কালোবাজারি কিংবা যাত্রী হয়রানির ঘটনা না ঘটে।
ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষের অন্যতম ভরসার নাম রেলপথ। তাই এবারও লাখো মানুষ স্বস্তির যাত্রার আশায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।



