প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
পবিত্র হজ পালনকে সামনে রেখে দেশের হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সৌদি আরবের তীব্র গরম, খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থান এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে হজযাত্রীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সরাসরি সূর্যের তাপ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান না করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বুধবার জারি করা এক বিশেষ নির্দেশনায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, পবিত্র হজের সময় সৌদি আরবে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি থাকে। ফলে অসাবধানতার কারণে হজযাত্রীরা পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, হিটস্ট্রোকসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় পড়তে পারেন। এসব ঝুঁকি এড়াতে আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হজযাত্রীদের দীর্ঘ সময় খোলা রোদে অবস্থান থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে দিনের অতিরিক্ত গরমের সময় অপ্রয়োজনীয় হাঁটাচলা কমিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে রোদের মধ্যে চলাচলের সময় মাথা ঢেকে রাখা বা ছাতা ব্যবহার করারও আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে শরীর সরাসরি সূর্যের তাপ থেকে কিছুটা সুরক্ষিত থাকে।
এ ছাড়া হজযাত্রীদের চলাচলের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব ছায়াযুক্ত পথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়াতে প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহনের সহায়তা নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ হজযাত্রী এবং নারীদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ পথ অতিক্রমের সময় নির্দিষ্ট বিরতিতে বিশ্রাম নেওয়া এবং ছায়াযুক্ত স্থানে কিছু সময় অবস্থান করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, তীব্র গরমে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হলো শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হওয়া। এ কারণে হজযাত্রীদের নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করতে বলা হয়েছে। তৃষ্ণা অনুভব না হলেও নির্দিষ্ট বিরতিতে পানি পান করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ, দীর্ঘ সময় হাঁটা এবং গরমের কারণে শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রতিবছর হজের মৌসুমে তীব্র গরমের কারণে অনেক হজযাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিশেষ করে যারা প্রথমবার হজে যান বা আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন না, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই এবার শুরু থেকেই সচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজযাত্রীদের সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সচেতনতামূলক তথ্য নিয়মিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীরা আগে থেকেই নিজেদের প্রস্তুত রাখতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পবিত্র হজ কেবল ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, এটি শারীরিক সক্ষমতারও একটি বড় পরীক্ষা। তাই সুস্থভাবে ইবাদত সম্পন্ন করতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত গরমে অসুস্থতা এড়াতে সতর্ক থাকা, বিশ্রাম নেওয়া এবং নিয়মিত পানি পান করাই হতে পারে নিরাপদ হজ পালনের অন্যতম প্রধান উপায়।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব হজযাত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, নিজেদের সুস্থতা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে নির্ধারিত নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে। কারণ সামান্য অসতর্কতা পবিত্র এই ইবাদতের আনন্দকে কষ্টকর অভিজ্ঞতায় পরিণত করতে পারে। তাই নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক এবং নির্বিঘ্ন হজ পালনের স্বার্থে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।



