প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১১:২৫ এএম
পবিত্র হজ পালনের জন্য ২০২৭ সালের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের গতি সন্তোষজনক না হওয়ায় নির্ধারিত হজ কোটা পূরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২১৭ জন প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন ৫২৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করেছেন ৬৯৩ জন। হজ মৌসুম শুরু হতে এখনও কয়েক মাস বাকি থাকলেও নিবন্ধনের বর্তমান চিত্র সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলেছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ওমরাহ পালনের প্রবণতা বৃদ্ধি এবং হজের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেক আগ্রহী ব্যক্তি নিবন্ধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন। ফলে প্রাথমিক নিবন্ধনের সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম দেখা যাচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৫৯৩ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬০ হাজার ১২৯ জন প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। তবে প্রাক-নিবন্ধন করলেও অনেকেই এখনও প্রাথমিক নিবন্ধনের ধাপে পৌঁছাননি। ফলে প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তিদের দ্রুত পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
২০২৭ সালের হজ নির্দেশিকা অনুযায়ী, হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্টের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হয়। এরপর প্রাক-নিবন্ধনের ক্রমানুসারে জাতীয় হজ তথ্যভান্ডারে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী ধাপে নির্ধারিত অর্থ জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়।
সৌদি আরবের নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে চলতি বছরের ২৮ জুলাই থেকে হজ নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে নিবন্ধনের সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে আগ্রহীদের ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হচ্ছে। পরে নির্ধারিত প্যাকেজ অনুযায়ী অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রাক-নিবন্ধিত ও প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্নকারীদের আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত নিবন্ধন শেষ করতে হবে।
হজযাত্রীরা সরকারি ব্যবস্থাপনা অথবা অনুমোদিত হজ এজেন্সির মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার যেকোনো একটি পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। উভয় ব্যবস্থাতেই নির্ধারিত নিয়ম মেনে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হজের ব্যয় বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং ওমরাহ পালনে আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে অনেকেই হজের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। তবে সময়সীমা যত এগোবে, নিবন্ধনের সংখ্যাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় আশা করছে, প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তিরা দ্রুত প্রাথমিক ও চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করলে নির্ধারিত কোটা পূরণ সম্ভব হবে। একই সঙ্গে হজে আগ্রহীদের সময়মতো প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বানও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।



