প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরার কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত বিভিন্ন উড়োজাহাজে দেশে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ৬১৭ জন হাজি। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় অংশ নেওয়া ৬০ হাজার ২৯৮ জন রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হজ শেষে দেশে ফেরার এই কার্যক্রম ধাপে ধাপে সম্পন্ন হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অবশিষ্ট হাজিরাও পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন। ইতোমধ্যে মোট ১৭২টি ফিরতি উড়োজাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হাজি দেশে ফিরেছেন। এছাড়া সৌদি আরবের বিভিন্ন উড়োজাহাজ সংস্থাও ফিরতি যাত্রী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। হজযাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
চলতি বছরের হজে অংশ নিতে গিয়ে ৫৪ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে মক্কা ও মদিনায়। এছাড়া জেদ্দায়ও একজন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে। তবে হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান মিনা ও মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।
হজ পালনকালে অসুস্থ হয়ে পড়া অনেক হাজিকে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শত শত হাজি চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন এবং কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্রগুলো হাজারো হাজিকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ প্রদান করেছে।
এদিকে তথ্য ও সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক হাজিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। হজযাত্রার বিভিন্ন ধাপে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের খোঁজ, অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদানেও এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের হজযাত্রা শুরু হয়েছিল গত এপ্রিল মাসে। কয়েক ধাপে বাংলাদেশ থেকে হাজিরা সৌদি আরবে যান এবং নির্ধারিত সময়ে পবিত্র হজের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। হজ শেষে মে মাসের শেষ দিক থেকে দেশে ফেরার কার্যক্রম শুরু হয়, যা আগামী মাসের শুরু পর্যন্ত চলবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল হাজি নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবেন। একই সঙ্গে হজ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা ও যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা।
বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত মোট হজ কোটার আওতায় এবার কয়েক হাজার সরকারি এবং বিপুল সংখ্যক বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হাজি পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পেয়েছেন। ধর্মীয় এই মহাসম্মেলন শেষে স্বজনদের কাছে ফিরে আসতে পেরে হাজিদের মাঝেও দেখা যাচ্ছে আনন্দ ও স্বস্তির আবহ।



