প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০২:১২ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি খাতে দীর্ঘ ছুটির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ বিরতির সমন্বয় রাখতে একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাতিল করে সেটিকে কর্মদিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ফলে ঈদ উপলক্ষে চাকরিজীবীরা একটানা কয়েক দিনের বিশ্রাম ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।
তবে দীর্ঘ ছুটির ভারসাম্য বজায় রাখতে আগামী ২৩ মে শনিবার, যা সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে গণ্য হয়, সেদিন সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ছুটির সুবিধা সমন্বয়ের অংশ হিসেবে ওই দিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ১৪ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ঈদ উপলক্ষে ছুটি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। এরপরই সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
তবে সব খাত এই ছুটির আওতায় থাকছে না। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস এবং অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। একইভাবে অগ্নিনির্বাপণ সেবা, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা, ডাক ও যোগাযোগসেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর জরুরি সেবাগুলোও চালু থাকবে।
এ ছাড়া হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এ দীর্ঘ ছুটির বাইরে থাকবেন। জনসাধারণের জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় তাদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের এ সিদ্ধান্তে সাধারণ চাকরিজীবীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিলেও, সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল হওয়ায় অনেকের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ ঈদ ছুটি নিশ্চিত করতে এ ধরনের সমন্বয় প্রয়োজন ছিল।
ঈদকে সামনে রেখে এবার দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবা সচল রাখতে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে।



