প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিচার ব্যবস্থা নিয়ে নিহত শিশুর বাবার ক্ষোভ বা হতাশা একেবারেই ভিত্তিহীন নয়। বরং সাম্প্রতিক কিছু নৃশংস ঘটনা সমাজ ও রাষ্ট্রের মানবিক অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আইনমন্ত্রী বলেন, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনাগুলো সমাজের গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। মাগুরার আছিয়া কিংবা ঢাকার রামিসার মতো ঘটনাগুলো মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এসব অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, রামিসার বাবা যে বিচার ব্যবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অতীতে বিভিন্ন মামলার দীর্ঘসূত্রতা ও বিচার বিলম্ব মানুষের আস্থায় প্রভাব ফেলেছে। তবে বর্তমান ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযোগপত্র দ্রুত দাখিল এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিচার কার্যক্রমে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না, তবে বিচার দ্রুত সম্পন্নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হলে বিচার নিয়ে মানুষের হতাশা কিছুটা হলেও কমবে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর পল্লবীতে একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে উঠে আসে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবার কান্নাজড়িত বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে তার প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।



