প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীজুড়ে সম্পন্ন হয়েছে ঈদের জামাত আয়োজনের বিস্তৃত প্রস্তুতি। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে একাধিক ঈদ জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন। পাশাপাশি দুই সিটি এলাকার বিভিন্ন মসজিদ ও নির্ধারিত খোলা স্থানেও ঈদের জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতি বিবেচনায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় এবং পঞ্চম ও শেষ জামাত বেলা পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত ভিড় এড়ানো সম্ভব হয়।
প্রতি বছর ঈদের দিন জাতীয় মসজিদে বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধু বা আত্মীয়দের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে আসেন। ফলে ঈদের দিন সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম এলাকায় ধর্মীয় আবহ, উৎসবমুখর পরিবেশ এবং মুসল্লিদের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
শুধু জাতীয় মসজিদই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মসজিদেও ঈদের জামাতের আয়োজন রাখা হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে এলাকাভিত্তিক মসজিদগুলোতেও মুসল্লিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং মুসল্লিদের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় পুরনো বাণিজ্য মেলার মাঠেও বৃহৎ পরিসরে ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশাল এই মাঠে একসঙ্গে ২৫ হাজারের বেশি মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঈদের জামাতকে ঘিরে মাঠে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অজুর ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বের হওয়ার নির্ধারিত পথ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক ব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা বহন করে। এই পবিত্র দিনে নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি দেশ, জাতি ও বিশ্বমানবতার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করবেন। রাজধানীজুড়ে ঈদের জামাতের এমন বিস্তৃত আয়োজন মুসল্লিদের মাঝে উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



