প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২৬, ১১:৫০ এএম
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ও ধর্মীয় তাৎপর্যকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে পশু কোরবানির কার্যক্রম। শুক্রবার রাজধানীসহ দেশের নানা এলাকায় সকাল থেকেই কোরবানির পশু জবাই, মাংস প্রস্তুত ও বণ্টনের ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে। অনেক পরিবার ঈদের প্রথম দিনের পরিবর্তে দ্বিতীয় দিনকে কোরবানির জন্য বেছে নিয়েছে, ফলে নগরজুড়ে এখনও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, কেউ পারিবারিক রীতি বজায় রাখতে ঈদের দ্বিতীয় দিনে কোরবানি করছেন, আবার কেউ প্রথম দিনে অতিরিক্ত ভিড়, কসাই সংকট কিংবা সময়ের অভাবের কারণে আজ পশু জবাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও অনেক মহল্লা ও আবাসিক এলাকায় সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন গৃহস্থরা।
কয়েকজন কোরবানিদাতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের প্রথম দিনে কসাইয়ের বাড়তি চাপ থাকায় অনেকে নির্ধারিত সময়ে কাজ করাতে পারেননি। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক গুনতে হয়েছে। এ কারণে তুলনামূলক স্বস্তিতে এবং কম চাপের মধ্যে কোরবানি সম্পন্ন করতে অনেকে দ্বিতীয় দিনকে বেছে নিচ্ছেন।
রাজধানীর মগবাজার এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন জানান, তাদের পরিবারে বহু বছর ধরেই ঈদের দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দেওয়ার রীতি রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে সময় নিয়ে সব কাজ সম্পন্ন করতে পারেন বলেই এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়। তিনি বলেন, এতে তাড়াহুড়া কম থাকে এবং আত্মীয়স্বজনের মধ্যেও স্বস্তিতে মাংস বিতরণ করা যায়।
অন্যদিকে, কসাইদের মাঝেও দ্বিতীয় দিনে ব্যস্ততা কম নয়। কসাই মতিন মিয়া জানান, ঈদের প্রথম দিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত একটানা কয়েকটি পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের কাজ করেছেন তিনি। দ্বিতীয় দিনেও বিভিন্ন বাসা থেকে ডাক পাচ্ছেন। তার ভাষ্য, অনেকেই ভিড় এড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে পরের দিনে কোরবানি করে থাকেন।
ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, কোরবানির নির্ধারিত সময় একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামী শরিয়াহ অনুসারে জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ পর্যন্ত কোরবানি আদায় করা যায়। ফলে ঈদের দিনে কোনো কারণে কোরবানি সম্ভব না হলে পরবর্তী দুই দিনেও পশু কোরবানি করা ধর্মীয়ভাবে বৈধ।
ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও ভাগাভাগির আনন্দও এই সময়টিকে বিশেষভাবে অর্থবহ করে তোলে। কোরবানির মাংস আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং অসচ্ছল মানুষের মধ্যে বণ্টনের মধ্য দিয়ে ঈদের প্রকৃত আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে সর্বস্তরে। ফলে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও কোরবানিকে ঘিরে ধর্মীয় আবহ ও উৎসবের অনুভূতি সমানভাবে বিরাজ করছে।



