প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় প্রভাব কিংবা স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ থাকবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ভর করে তার শিক্ষকদের দক্ষতা, জ্ঞান ও যোগ্যতার ওপর। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাত গ্রহণযোগ্য হবে না।
শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের তাঁতিপাড়া কালিবাড়ী বড় মাঠের পশ্চিম পাশে স্থাপিত অস্থায়ী কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি শিক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে এগোচ্ছে ঠাকুরগাঁওবাসীর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়। এই প্রতিষ্ঠানকে কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে একদিন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠে পরিণত হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগে কোনো দলীয় বিবেচনা বা আত্মীয়তার সম্পর্ক যেন প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যারা জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতায় এগিয়ে থাকবেন, তারাই শিক্ষকের দায়িত্ব পাবেন। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বর্তমান যুগে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন অপরিহার্য। এজন্য আধুনিক গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের বিকল্প নেই।
সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি মেডিকেল কলেজ ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। সেই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইসরাফিল শাহীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয় উত্তরাঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে প্রতিষ্ঠানটি।



