প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
দেশের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও কার্যকর ও সমন্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সমঝোতার আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্তপথে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্ত অঞ্চলে প্রায়ই নানা ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠে থাকে। বিশেষ করে মাদক, চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বিভিন্ন ধরনের আন্তঃদেশীয় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছিল। সেই প্রয়োজন থেকেই সীমান্ত পাহারায় আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে সীমান্তঘেঁষা মোট ১১টি জেলায় এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সিলেট, জামালপুর ও খাগড়াছড়ি। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আনসার সদস্যদের পাশাপাশি গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় একাধিক বাহিনীর সমন্বিত উপস্থিতি নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও বৃদ্ধি করবে। বিশেষ করে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত জনবল থাকায় টহল কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে অতিরিক্ত সদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে আরও সদস্য মোতায়েনের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে করে যেকোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সীমান্ত নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য প্রবেশ কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধ করা গেলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।
একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এই যৌথ উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষেরা প্রায়ই নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। নতুন এই সমন্বিত ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।



