প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ১০:০২ পিএম
দুর্নীতি ও পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগে বিদেশে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে চলমান মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
রোববার বিকেলে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি দমন কমিশনের জনসংযোগ শাখার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চলমান থাকায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে আগে থেকেই বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। এর ফলে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া আরও সহজ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব তাকে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।
বর্তমানে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের একটি মামলার বিচার চলছে। অন্য মামলাগুলোর তদন্তও বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে অবস্থানরত কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হবে।
এদিকে আলোচিত এই ঘটনাকে ঘিরে জনমনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের স্বার্থে দ্রুত অভিযুক্তকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন অনেকে। এখন নজর রয়েছে পরবর্তী সরকারি পদক্ষেপ এবং তাকে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার দিকে।



