প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিকভাবে জারি হওয়া লাল সতর্কতার ভিত্তিতে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই নগরীতে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশে যাত্রার সময় দুবাইয়ে যাত্রাবিরতিকালে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনার পর আমিরাতের স্বরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের অধীন সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের আন্তর্জাতিক সমন্বয় শাখার কাছে আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে নিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আটক হওয়ার পর তাকে দেশটির বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হয়। পরে স্থানীয় আইন অনুযায়ী তার বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তন আবেদন পাঠানো হলে বিষয়টি পরবর্তী ধাপে এগোবে।
দুবাই থেকে পাঠানো আনুষ্ঠানিক বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতি দমন সংস্থার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার জারি করা লাল সতর্কতার আলোকে তাকে আটক করা হয়েছে। দেশটির প্রচলিত নিয়ম অনুসারে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময় পার হলে আইনি জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বাংলাদেশকে যেসব নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়, ছবি, নাগরিকত্ব ও বসবাসসংক্রান্ত তথ্য, অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ, সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা, সম্ভাব্য সর্বোচ্চ শাস্তির তথ্য এবং বিচারিক কর্তৃপক্ষের জারি করা আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অনুলিপি।
এ ছাড়া মামলার তদন্ত-সংক্রান্ত বিবরণ, অপরাধ সংঘটনের সময় ও স্থান সম্পর্কিত তথ্য এবং যদি কোনো সাজা ঘোষিত হয়ে থাকে তবে আদালতের সিদ্ধান্তের নথিও জমা দিতে হবে। এসব কাগজপত্র যথাযথ অনুমোদন ও আরবি ভাষায় অনুবাদ করে পাঠানোর শর্ত আরোপ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি এখন পুরোপুরি কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে সাবেক এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।



