প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সড়কে যানবাহনের চাপ কমানো, গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং নগরবাসীর চলাচল সহজ করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মহাখালী বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট কমাতে বাসগুলোর ডিপো সাময়িকভাবে পূর্বাচল এলাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও ব্যস্ত সড়কগুলোতে যানবাহনের অযৌক্তিক চাপ কমাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মহাখালী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাসের অবস্থান, যাত্রী ওঠানামা এবং ডিপো কার্যক্রমের কারণে যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাসগুলোকে পূর্বাচলে নির্ধারিত স্থানে রাখা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যাত্রী পরিবহনের সময় টার্মিনালে আনা হবে।
একই ধরনের ব্যবস্থা সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের ক্ষেত্রেও নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এসব এলাকার যানজট কমাতে অস্থায়ী বিকল্প স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার কাজও এগিয়ে চলছে।
আলোচনায় রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ফুটপাত পথচারীদের জন্য নিরাপদ ও চলাচল উপযোগী রাখতে বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত হলে সড়কের ওপর মানুষের চাপ কমবে এবং যান চলাচলও স্বাভাবিক হবে।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত দ্রুতগতির গণপরিবহন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল না করে কীভাবে জনগণের জন্য আরও কার্যকর পরিবহন করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি বিকল্প পরিকল্পনা উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে আধুনিক সংকেতব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে শাহবাগ এলাকায় নতুন করে ট্রাফিক সংকেত ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুলিস্তান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্রের চাপ কমাতে পর্যায়ক্রমে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং নগরবাসী দীর্ঘদিনের যানজট থেকে অনেকটাই স্বস্তি পাবেন।



