প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থ ব্যয়, বিভিন্ন ব্যক্তি ও কর্মচারীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান, দোকান বরাদ্দ এবং দরপত্র কার্যক্রম নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসনিক মহল ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ব্যয়ের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সহায়তা গ্রহণকারীদের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যও অসম্পূর্ণ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীও বিভিন্ন উপলক্ষে ঐচ্ছিক তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। সমালোচকদের দাবি, দুর্যোগ বা জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য নির্ধারিত এই তহবিল ব্যবহারে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি ছিল।
এদিকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে দোকান বরাদ্দ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বের শেষ দিকে বিপুল সংখ্যক দরপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। যদিও এসব বিষয়ে সাবেক প্রশাসক দাবি করেছেন, সব কার্যক্রম নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে তহবিল ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক অবস্থার বিষয়ে ভিন্ন তথ্যও সামনে এসেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আরও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় পুরো বিষয়টি স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে পর্যালোচনার দাবি উঠছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও সুশাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, জনস্বার্থে বরাদ্দকৃত অর্থের প্রতিটি ব্যয়ের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ এবং নিরপেক্ষ নিরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য কিংবা মিথ্যা—তা নির্ধারণের জন্য দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই হলে জনমনে থাকা প্রশ্নেরও জবাব মিলবে। একই সঙ্গে নগর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



