রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তৃতীয় টার্মিনাল ঘিরে বিমান খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ যুক্তরাজ্যের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৮, ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম

তৃতীয় টার্মিনাল ঘিরে বিমান খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ যুক্তরাজ্যের

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পরিবহন, বাণিজ্য ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন খাতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাজ্য। রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক দেশের বিমান পরিবহন খাতে বিনিয়োগে তাদের আগ্রহের কথা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পর এ খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন খাতে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

আলোচনায় বিমান পরিবহন খাতের আধুনিকায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নতুন টার্মিনাল চালুর ফলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, যাত্রীসেবা এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে মত প্রকাশ করা হয়। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিমান পরিবহন সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং সেবাখাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাজ্য।

বৈঠকে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। ব্রিটিশ হাইকমিশনার জানান, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী তাদের সরকার। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষাব্যবস্থার সম্প্রসারণে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন শিল্প ও উৎপাদন খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন বিনিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছে, বিমান পরিবহন, কারিগরি শিক্ষা ও বিনিয়োগ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে এবং তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!