রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অক্সিজেন লাইন লিকেজ নিয়ে শ্যামলীর হাসপাতালে শিশুমৃত্যু অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

অক্সিজেন লাইন লিকেজ নিয়ে শ্যামলীর হাসপাতালে শিশুমৃত্যু অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় একটি বেসরকারি শিশু বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক চার মাস বয়সী শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে ব্যবহৃত অক্সিজেন সরবরাহ লাইনে লিকেজ বা ত্রুটির কারণে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে পূর্বের শারীরিক জটিলতার কারণে।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার বিকেলের দিকে শ্যামলীর মিরপুর সড়কের পাশে অবস্থিত একটি বহুতল ভবনে পরিচালিত শিশু হাসপাতালটিতে। ওই ভবনের সপ্তম তলায় বিশেষায়িত শিশু চিকিৎসা ইউনিটে শিশুটি চিকিৎসাধীন ছিল। হাসপাতালটি একটি ২০ তলা ভবনের অংশ, যেখানে একাধিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

শিশুটির বাবা অভিযোগ করে বলেন, তার সন্তান চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয় এবং এরপরই তার সন্তানের অবস্থার অবনতি ঘটে। তিনি দাবি করেন, অক্সিজেন লাইনের ত্রুটির কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্বীকার করছে না এবং দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে।

ঘটনার পর ওই ইউনিটে ভর্তি থাকা আরও কয়েকজন শিশুকে দ্রুত অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, একই সময়ে ইউনিটে চিকিৎসাধীন পাঁচজন শিশুকে নিরাপত্তার কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, শিশুটি আগে থেকেই হাম-পরবর্তী জটিলতায় ভুগছিল এবং তার শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হচ্ছিল। শ্বাসকষ্ট বাড়ার কারণে তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেওয়া হয়। এ সময় হঠাৎ একটি শব্দ শোনা যায় এবং এরপর অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয় বলে তারা ধারণা করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শিশুর মৃত্যুর সঙ্গে অক্সিজেন লাইনের ত্রুটির সরাসরি সম্পর্ক আছে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

তিনি আরও দাবি করেন, শিশুটিকে পরবর্তীতে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে নেওয়া হলেও কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি সম্পূর্ণ কাকতালীয় হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিশুর স্বজনরা বিষয়টি তদন্তের দাবি জানালেও তারা লিখিত অভিযোগ করেননি বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্য জানান, স্বজনদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ভবনটিতে একাধিক হাসপাতাল পরিচালিত হওয়ায় নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, একটি আবাসিক ভবনে এতগুলো হাসপাতাল পরিচালনা কতটা নিরাপদ, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত।

ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!