প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং তাদের আশপাশে বসবাসকারী স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। এ লক্ষ্যে প্রায় ১৩৭ কোটি টাকার একটি সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকার ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থার মধ্যে একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতিনিধি এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চুক্তির আওতায় প্রাপ্ত অর্থ রোহিঙ্গা শিবির ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, পুষ্টি, শিশুদের নিরাপত্তা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি এই সহায়তার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আশা করেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই অর্থায়ন বৃহত্তর একটি মানবিক সহায়তা পরিকল্পনার অংশ। ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণে অস্ট্রেলিয়া কয়েক হাজার কোটি টাকার সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষা ও মানবিক সেবার পাশাপাশি মৌলিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে অস্ট্রেলিয়া ধারাবাহিকভাবে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। নতুন এই অর্থায়নের ফলে শিবিরে বসবাসরত শিশু, নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



